যে ইকুয়েডর এর আগে ৫৩ বছর ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র করতে পারেনি কোপায়, তারাই রুখে দিল! শুধু কি তা-ই, কপালগুণে একটা পয়েন্ট পেয়েছে ব্রাজিলই, বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ইকুয়েডরের বৈধ গোলটাও বাতিল হয়েছে বলে। এমন অনেক কিছুই হচ্ছে, যা কেউ ভাবেনি আগে!ব্রাজিলের হলুদ জার্সির সঙ্গে এই দলটা একেবারেই যায় না। বিশেষ করে কোচ দুঙ্গার দর্শন। এ নিয়েই সমর্থকদের মধ্যে নানা ক্ষোভ। ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছে কি না, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে ২ পয়েন্ট হারিয়ে ফেলার পরও দলের অনুশীলন দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেনি দেশটির সংবাদ মাধ্যম।
তবে দুঙ্গা ব্যাখ্যা করলেন, ‘অনেক বেশি অনুশীলন করা তো ব্যাপার নয়। আসল ব্যাপারটি হলো আপনি কতটা মানসম্পন্ন অনুশীলন করছেন। আমরা দীর্ঘ একটা ফুটবল মৌসুম শেষ করে এসেছি, খেলোয়াড়দের ব্যাপারে তাই সতর্ক থাকতেই হবে।’
ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ যাত্রা। যুক্তরাষ্ট্রেও এক শহর থেকে আরেক শহরের ভ্রমণক্লান্তি। সময়ের পার্থক্য, এসবও আছে। তবে দুঙ্গার কণ্ঠে এসব কথা অজুহাত হিসেবে শুনতেও রাজি নয় ব্রাজিল। কোচ আশ্বস্ত করছেন, ‘খেলোয়াড়েরা মনপ্রাণ ঢেলে দিয়েই অনুশীলন করছে। আমি নিশ্চিত, টুর্নামেন্ট যতই এগোবে, আমরা দল হিসেবে আরও উন্নতি করব।’
ব্রাজিলের পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ হাইতি। এমনিতে এই ম্যাচ ব্রাজিলের জন্য পানির মতো সোজা হওয়ারই কথা। তবে পা হড়কালে বিপদে পড়ে যাবে দুঙ্গার দল। পরের রাউন্ডের হিসাব হয়ে যাবে অনেক কঠিন। তা ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেতে গ্রুপ সেরাও হওয়া চাই। একটু কি মানসিক চাপে আছে ব্রাজিল?
দুঙ্গা তা মনে করেন না। বরং এই ম্যাচে দলের খেলোয়াড়রা চাপহীন হয়ে নিজেদের সেরাটা দেবে বলেই মনে করেন। ফ্লোরিডায় এমনিতেই ব্রাজিলের অনেক সমর্থক। এই ম্যাচে ব্রাজিল হোম ম্যাচ খেলার সুবিধা পাবে বলেও মনে করেন কোচ, ‘যেখানে অনেক বড় সংখ্যায় ব্রাজিলের মানুষ থাকে, সেখানে খেলার সময় বাড়তি অনুপ্রেরণা কাজ করে। তাঁদের জন্যও আমরা দুর্দান্ত খেলতে চাই।’
কিন্তু এই দুর্দান্ত খেলার মানে কী? গত সাত ম্যাচের চারটিতেই ড্র করেছে ব্রাজিল। তিন জয়ের একটি কোপা শুরুর পানামার বিপক্ষে ২-০ গোলের, যে জয়টিও মন ভরায়নি সমর্থকদের। ব্রাজিল, পাঁচ তারকার দলটি তো নামেরও তো একটা ধার আর ভার আছে।
হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিল নিজেদের খেলা ‘হাই’-এর উচ্চতায় নিয়ে যাবে; নাকি ‘হাই’ তোলা ফুটবল খেলবে, সেটাই দেখার।