মাশরাফির ছোঁয়াতেই বদলে গেল দল
লিগের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম তিন ম্যাচেই হার দিয়ে ঢাকা ডিভিশন প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ শুরু করেছিল কলাবাগান ক্রীড়া চক্র (কেসি)। মাশরাফি বিন মুর্তজার দল এবার রেলিগেশন লিগেই খেলতে হয় কি না, এ নিয়েই তখন ঘোর সন্দেহ। অথচ সেই কলাবাগানই এখন কী দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে! স্বপ্নও দেখছে সুপার লিগে খেলার।
আজ বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমিকে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ২৯ রানে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয়
পেল মাশরাফিদের কলাবাগান। ১১ ম্যাচের ৬টিতে জিতে পয়েন্ট তালিকার সাতে আছে কলাবাগান কেসি। এখান থেকে সুপার সিক্সে খেলতে হলে অবশ্য অন্য ম্যাচগুলোর ফলও তাদের পক্ষে আসতে হবে।আজ বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমিকে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ২৯ রানে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয়
দুই কলাবাগানের ম্যাচটি অবশ্য গতকালও বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আজ রিজার্ভ ডে–তে আবারও মিরপুরে হানা দিল বৃষ্টি। অবশ্য জয় নিয়ে খুব একটা সংশয় মাশরাফির দলের হয়তো ছিলও না। বৃষ্টি শুধু ফল নির্ধারণে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতির সাহায্য নিতে বাধ্য করল, এই যা!
কালই একাডেমিকে বড় ধাক্কা দিয়ে রেখেছিলেন মাশরাফিরা। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ১৩ ওভারে ৩৫ রানে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন চার ব্যাটসম্যানকে। তাতে মাশরাফিরই ছিল বড় অবদান, কাল খেলা বন্ধ হওয়ার সময় বাংলাদেশ অধিনায়কের বোলিং বিশ্লেষণ ছিল এমন, ৭-৩-১৩-২! কাল অন্য দুটি উইকেট নিয়েছিলেন দেওয়ান সাব্বির ও আবদুর রাজ্জাক।
মাশরাফি আজ আর বোলিংই করেননি। তবে কাল যেখানে শেষ করেছিলেন, আজ সেখান থেকেই শুরু করেছেন রাজ্জাক। দিনের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারে (ইনিংসের ১৫ ওভার) তাপস ঘোষকে ফিরিয়ে দেন। এরপর একাডেমির শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ ৪২ রান করা নুরুজ্জামানকে আউট করেছেন রাজ্জাক। তাঁর ৩ উইকেটের পাশাপাশি শাহবাজ চৌহানের ২ উইকেটে একাডেমি অলআউট হয়েছে মাত্র ১২৮ রানে।
তাড়া করতে নেমে ওপেনার হাসানুজ্জামানের ৪৭ রানে ভর করে ২৩ ওভারেই ৯১ রান করে ফেলে কলাবাগান কেসি। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান তাসামুল করেছেন ১৭, সঙ্গে পরশ দোগরা অপরাজিত ছিলেন ১৫ রানে। এরপরই বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে পার স্কোরের চেয়ে ২৯ রান এগিয়ে থাকায় জিতে যান মাশরাফিরা।
এই টানা চার জয়ে অধিনায়কের আছে দারুণ অবদান। বল হাতে দুর্দান্ত তো করেছেনই, মাঝে এক ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে করেছেন সেঞ্চুরিও। মাশরাফি তো সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিতে ভালোবাসেন!
কালই একাডেমিকে বড় ধাক্কা দিয়ে রেখেছিলেন মাশরাফিরা। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ১৩ ওভারে ৩৫ রানে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন চার ব্যাটসম্যানকে। তাতে মাশরাফিরই ছিল বড় অবদান, কাল খেলা বন্ধ হওয়ার সময় বাংলাদেশ অধিনায়কের বোলিং বিশ্লেষণ ছিল এমন, ৭-৩-১৩-২! কাল অন্য দুটি উইকেট নিয়েছিলেন দেওয়ান সাব্বির ও আবদুর রাজ্জাক।
মাশরাফি আজ আর বোলিংই করেননি। তবে কাল যেখানে শেষ করেছিলেন, আজ সেখান থেকেই শুরু করেছেন রাজ্জাক। দিনের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারে (ইনিংসের ১৫ ওভার) তাপস ঘোষকে ফিরিয়ে দেন। এরপর একাডেমির শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ ৪২ রান করা নুরুজ্জামানকে আউট করেছেন রাজ্জাক। তাঁর ৩ উইকেটের পাশাপাশি শাহবাজ চৌহানের ২ উইকেটে একাডেমি অলআউট হয়েছে মাত্র ১২৮ রানে।
তাড়া করতে নেমে ওপেনার হাসানুজ্জামানের ৪৭ রানে ভর করে ২৩ ওভারেই ৯১ রান করে ফেলে কলাবাগান কেসি। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান তাসামুল করেছেন ১৭, সঙ্গে পরশ দোগরা অপরাজিত ছিলেন ১৫ রানে। এরপরই বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে পার স্কোরের চেয়ে ২৯ রান এগিয়ে থাকায় জিতে যান মাশরাফিরা।
এই টানা চার জয়ে অধিনায়কের আছে দারুণ অবদান। বল হাতে দুর্দান্ত তো করেছেনই, মাঝে এক ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে করেছেন সেঞ্চুরিও। মাশরাফি তো সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিতে ভালোবাসেন!
আফসোস করতেই পারেন মাশরাফি
বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি-বাগড়া থাকবেই। কিন্তু মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বৃষ্টির দাপট যেন একটু বেশিই। শেখ জামাল-গাজী গ্রুপ, কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি-প্রাইম ব্যাংকের মতো কলাবাগান ক্রীড়াচক্র-কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির ম্যাচটিও গড়িয়েছে রিজার্ভ ডেতে। কিন্তু সেটিও পুরোপুরি হতে পারল না প্রবল বর্ষণের কারণে। কাল ডাকওয়ার্থ-লুইস (ডি/এল) পদ্ধতিতে মাশরাফির কলাবাগান জিতেছে ২৯ রানে।
আগের দিনের মতো কালও শুরুতেই ধাক্কা খায় একাডেমি। স্কোরবোর্ডে কোনো রান না যোগ হতেই আউট তাপস ঘোষ। মেহেদী হাসান মিরাজ-নুরুজ্জামানের ষষ্ঠ উইকেট-জুটিতে ওঠা ৪০ রানে যা একটু প্রতিরোধ গড়ে একাডেমি। এরপর আবার ২১ রানের মধ্যে পড়ে যায় ৩ উইকেট। নবম উইকেট-জুটিতে নূর হোসেন-নুরুজ্জামান ৩২ রান যোগ করলেও একাডেমির স্কোরটা ভদ্রস্থ হয়নি। ৩৯.২ ওভারে ১২৮ রানেই ইনিংস শেষ। বোলিংয়ে উজ্জ্বলতম নাম আবদুর রাজ্জাক, ২৮ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।
১২৯ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে কলাবাগান তুলে ফেলে ৯১ রান। এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি, যা খেলা আর শুরুই হতে দেয়নি।
প্রথম তিন ম্যাচেই হেরেছিল কলাবাগান। পরের ৮ ম্যাচের ৬টিতেই জিতেছে। কিন্তু ১২ পয়েন্ট সুপার লিগে ওঠার সম্ভাবনাটাকে শুধু অক্সিজেন দিয়েই বাঁচিয়ে রাখতে পারছে। মাশরাফি বিন মুর্তজার আফসোস হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রাইম দোলেশ্বর ও ব্রাদার্সের বিপক্ষে জিততে জিততে হেরেছে তাঁর দল। ওই দুটি ম্যাচে জিততে পারলে শুধু সুপার লিগই নিশ্চিত হতো না, তাঁর দল থাকতে পারত শিরোপার দৌড়েও!
সংক্ষিপ্ত স্কোর
কলাবাগান সিএ: ৩৯.২ ওভারে ১২৮ (নুরুজ্জামান ৪২, মেহেদী ২২, মাইশুকুর ১৭; রাজ্জাক ৩/২৮, মাশরাফি ২/১৩) কলাবাগান কেসি: ২৩ ওভারে ৯১/৪ (হাসানুজ্জামান ৪৭, তাসামুল ১৭; আবু জায়েদ ২/১৪, নূর হোসেন ১/১৪)
ফল: কলাবাগান কেসি ২৯ রানে জয়ী (ডি/এল)
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: আবদুর রাজ্জাক।
আগের দিনের মতো কালও শুরুতেই ধাক্কা খায় একাডেমি। স্কোরবোর্ডে কোনো রান না যোগ হতেই আউট তাপস ঘোষ। মেহেদী হাসান মিরাজ-নুরুজ্জামানের ষষ্ঠ উইকেট-জুটিতে ওঠা ৪০ রানে যা একটু প্রতিরোধ গড়ে একাডেমি। এরপর আবার ২১ রানের মধ্যে পড়ে যায় ৩ উইকেট। নবম উইকেট-জুটিতে নূর হোসেন-নুরুজ্জামান ৩২ রান যোগ করলেও একাডেমির স্কোরটা ভদ্রস্থ হয়নি। ৩৯.২ ওভারে ১২৮ রানেই ইনিংস শেষ। বোলিংয়ে উজ্জ্বলতম নাম আবদুর রাজ্জাক, ২৮ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।
১২৯ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে কলাবাগান তুলে ফেলে ৯১ রান। এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি, যা খেলা আর শুরুই হতে দেয়নি।
প্রথম তিন ম্যাচেই হেরেছিল কলাবাগান। পরের ৮ ম্যাচের ৬টিতেই জিতেছে। কিন্তু ১২ পয়েন্ট সুপার লিগে ওঠার সম্ভাবনাটাকে শুধু অক্সিজেন দিয়েই বাঁচিয়ে রাখতে পারছে। মাশরাফি বিন মুর্তজার আফসোস হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রাইম দোলেশ্বর ও ব্রাদার্সের বিপক্ষে জিততে জিততে হেরেছে তাঁর দল। ওই দুটি ম্যাচে জিততে পারলে শুধু সুপার লিগই নিশ্চিত হতো না, তাঁর দল থাকতে পারত শিরোপার দৌড়েও!
সংক্ষিপ্ত স্কোর
কলাবাগান সিএ: ৩৯.২ ওভারে ১২৮ (নুরুজ্জামান ৪২, মেহেদী ২২, মাইশুকুর ১৭; রাজ্জাক ৩/২৮, মাশরাফি ২/১৩) কলাবাগান কেসি: ২৩ ওভারে ৯১/৪ (হাসানুজ্জামান ৪৭, তাসামুল ১৭; আবু জায়েদ ২/১৪, নূর হোসেন ১/১৪)
ফল: কলাবাগান কেসি ২৯ রানে জয়ী (ডি/এল)
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: আবদুর রাজ্জাক।
সমাধানের পথ খুঁজছে ব্রাজিল
যে ইকুয়েডর এর আগে ৫৩ বছর ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র করতে পারেনি কোপায়, তারাই রুখে দিল! শুধু কি তা-ই, কপালগুণে একটা পয়েন্ট পেয়েছে ব্রাজিলই, বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ইকুয়েডরের বৈধ গোলটাও বাতিল হয়েছে বলে। এমন অনেক কিছুই হচ্ছে, যা কেউ ভাবেনি আগে!ব্রাজিলের হলুদ জার্সির সঙ্গে এই দলটা একেবারেই যায় না। বিশেষ করে কোচ দুঙ্গার দর্শন। এ নিয়েই সমর্থকদের মধ্যে নানা ক্ষোভ। ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছে কি না, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে ২ পয়েন্ট হারিয়ে ফেলার পরও দলের অনুশীলন দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেনি দেশটির সংবাদ মাধ্যম।
তবে দুঙ্গা ব্যাখ্যা করলেন, ‘অনেক বেশি অনুশীলন করা তো ব্যাপার নয়। আসল ব্যাপারটি হলো আপনি কতটা মানসম্পন্ন অনুশীলন করছেন। আমরা দীর্ঘ একটা ফুটবল মৌসুম শেষ করে এসেছি, খেলোয়াড়দের ব্যাপারে তাই সতর্ক থাকতেই হবে।’
ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ যাত্রা। যুক্তরাষ্ট্রেও এক শহর থেকে আরেক শহরের ভ্রমণক্লান্তি। সময়ের পার্থক্য, এসবও আছে। তবে দুঙ্গার কণ্ঠে এসব কথা অজুহাত হিসেবে শুনতেও রাজি নয় ব্রাজিল। কোচ আশ্বস্ত করছেন, ‘খেলোয়াড়েরা মনপ্রাণ ঢেলে দিয়েই অনুশীলন করছে। আমি নিশ্চিত, টুর্নামেন্ট যতই এগোবে, আমরা দল হিসেবে আরও উন্নতি করব।’
ব্রাজিলের পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ হাইতি। এমনিতে এই ম্যাচ ব্রাজিলের জন্য পানির মতো সোজা হওয়ারই কথা। তবে পা হড়কালে বিপদে পড়ে যাবে দুঙ্গার দল। পরের রাউন্ডের হিসাব হয়ে যাবে অনেক কঠিন। তা ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেতে গ্রুপ সেরাও হওয়া চাই। একটু কি মানসিক চাপে আছে ব্রাজিল?
দুঙ্গা তা মনে করেন না। বরং এই ম্যাচে দলের খেলোয়াড়রা চাপহীন হয়ে নিজেদের সেরাটা দেবে বলেই মনে করেন। ফ্লোরিডায় এমনিতেই ব্রাজিলের অনেক সমর্থক। এই ম্যাচে ব্রাজিল হোম ম্যাচ খেলার সুবিধা পাবে বলেও মনে করেন কোচ, ‘যেখানে অনেক বড় সংখ্যায় ব্রাজিলের মানুষ থাকে, সেখানে খেলার সময় বাড়তি অনুপ্রেরণা কাজ করে। তাঁদের জন্যও আমরা দুর্দান্ত খেলতে চাই।’
কিন্তু এই দুর্দান্ত খেলার মানে কী? গত সাত ম্যাচের চারটিতেই ড্র করেছে ব্রাজিল। তিন জয়ের একটি কোপা শুরুর পানামার বিপক্ষে ২-০ গোলের, যে জয়টিও মন ভরায়নি সমর্থকদের। ব্রাজিল, পাঁচ তারকার দলটি তো নামেরও তো একটা ধার আর ভার আছে।
হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিল নিজেদের খেলা ‘হাই’-এর উচ্চতায় নিয়ে যাবে; নাকি ‘হাই’ তোলা ফুটবল খেলবে, সেটাই দেখার।
চে গুয়েভারাকে নিয়ে মার্কিন মুলুকে আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনার মতো আবেগপ্রবণ ও আমুদে সমর্থক খুব কমই দেখা যায়। ফুটবলের বড় আসর মানেই আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সরব উপস্থিতি। নিজেদের খেলোয়াড়দের প্রশস্তি ও প্রতিপক্ষকে খোঁচা দেওয়া। এবার তাঁদের শিকার যুক্তরাষ্ট্র।
২০১৪ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ব্রাজিল সেমিফাইনালে হেরে বসেছিল জার্মানির কাছে। ৭-১ গোলে বড় পরাজয়ের জ্বলুনিতে বিছুটি লাগিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা। শেষ দিকে ব্রাজিলকে খোঁচা দিয়ে গান গেয়েছিলেন। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পর আর্জেন্টাইনদের কণ্ঠে ‘ব্রাজিল, তোমার কেমন লাগছে বলো’ শুনতে একদমই ভালো লাগেনি স্বাগতিকদের।
এবার যুক্তরাষ্ট্রে হচ্ছে কোপা আমেরিকা। যুক্তরাষ্ট্রকে খোঁচা দেওয়ার জন্যও তাই আর্জেন্টিনার সমর্থক দল নতুন গান বেঁধেছে। আর খোঁচাটাও যেন মোক্ষম হয় সে জন্য গানে ব্যবহার করা হয়েছে চে গুয়েভারার নাম। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক অস্বস্তির কারণ তো ‘চে গুয়েভারা’ নামটাই। এই গানে মেসির হাতে শিরোপার স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সাহস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আর্জেন্টাইনরা।
গানটি অনেকটা এ রকম—
আমাকে আনন্দ দাও, আমার হৃদয় ভরিয়ে দাও
কোপা জেতাই যে আমার মূল লক্ষ্য
আমাদের স্বপ্ন দিয়ে সান্তা ক্লারা জয় করেছি
লিওনেল মেসির হাত ধরে চ্যাম্পিয়ন হব আমরা
তোমরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে
কারণ, তোমাদের কারও নেই চে গুয়েভারার সাহস..
ব্রেকিংঃ সাসেক্সের জার্সিতে মাঠে নামবেন মুস্তাফিজ
তিনি আদৌ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্সের হয়ে খেলবেন কি খেলবেন না সেটা নিয়ে একধরণের জল্পনা-কল্পনা ছিল। আর সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান মুস্তাফিজুর রহমান নিজেই ঘটালেন। জানিয়ে দিলেন ইংল্যান্ডে যাচ্ছেন তিনি। আর সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১০ জুন সাসেক্সের জার্সিতে অভিষেক হয়ে যাবে কা
টার মাস্টারের।
এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, খুব দ্রুতই দেশ ছাড়তে হবে তাকে। ফলে চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও আর মোহামেডানের হয়ে মাঠে নামা হচ্ছে না বিস্ময় বালকের।
ক’দিন আগেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে ৫৫ দিনের সফল এক সফর শেষ করে ফিরেছেন এই বাঁ-হাতি পেসার। টানা খেলার ধকল কাটানোর জন্য অল্প ক’দিনের বিশ্রাম নিয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে ফিটনেসের পরীক্ষাও দিয়েছেন। আর সেখান থেকে সবুজ সংকেত আসার পরই উড়াল দিচ্ছেন ইংল্যান্ডের পথে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে তিনি জানিয়েছেন এই সুখবর।
সেদিন, মানে ১০ জুন সাসেক্সের প্রতিপক্ষ কেন্ট। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে চেমসফোর্ডে। ফ্লাডলাইটের আলোয় ম্যাচটা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১২ টায়। তিন ম্যাচের মধ্যে দু’টিতে হেরেছে কেন্ট।
দক্ষিনাঞ্চলের গ্রুপে অবশ্য বেশ ভাল অবস্থানে আছে মুস্তাফিজের দল সাসেক্স। তিন ম্যাচে দুই জয় নিয়ে তারা অবস্থান করছে পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে। ওই গ্রুপে শীর্ষে আছে গ্ল্যামরগান।
কাউন্টি ক্রিকেটের জমজমাট টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ন্যাটওয়েস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টি শুরু হয়েছে গত ২০ মে। শেষ হবে আগামী ২০ আগস্ট।
দাদির জন্য ডি মারিয়ার কান্নাভেজা গোল
গোল করেই ছুটে গেলেন ডাগ–আউটের দিকে। একটা সাদা টি–শার্ট উঁচিয়ে ধরলেন। সেখানে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা কথাটা বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘দাদি, এই গোলটা তোমার জন্য।’ ম্যাচের পর তো সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে একেবারেই ভেঙে পড়লেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। কান্নাভেজা চোখ আর বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠ অনুচ্চারে জানিয়ে দিচ্ছিল, প্রিয় মানুষকে হারানোর শোকে কতটা বিহ্বল তিনি।খবরটা পেয়েছিলেন ম্যাচের আগের দিন রাতে। ছোটবেলা থেকে যাঁর কোলে-পিঠে মানুষ হয়েছেন, সেই প্রাণপ্রিয় দাদি আর নেই। অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার জন্য শোকটা সহ্য করা কঠিনই ছিল। কিন্তু মা তাঁকে মনে করিয়ে দিলেন, দাদির জন্য হলেও তাঁকে মাঠে নামতে হবে। পরে ম্যাচ শেষে ডি মারিয়াও কাঁপা কাঁপা গলায় সেটিই বললেন, ‘জাতীয় দলে খেলার জন্য দাদি সব সময় আমাকে নিয়ে গর্ব করতেন। তাঁর জন্যই আমি আজ মাঠে নেমেছি।’
ডি মারিয়া শুধু মাঠেই নামেননি, চিলির সঙ্গে ২-১ গোলের জয়ে আর্জেন্টাইন আক্রমণের প্রাণভোমরাও হয়ে ছিলেন। এভার বানেগার পাস থেকে প্রথম গোলটা করেছেন, পরে আবার বানেগাকে দিয়ে করিয়েছেন দ্বিতীয়টি। ম্যাচটা এর চেয়ে স্মরণীয় আর কীভাবে করতে পারতেন তিনি!
দাদির মৃত্যুর পর ডি মারিয়া ইনস্টাগ্রামেও একটা পোস্ট দিয়েছেন। দাদির সঙ্গে নিজের ছবিতে লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় বুড়ি মা, এবার তোমার বুড়োর পাশে শান্তিতে ঘুমাও। যেসব শিক্ষা আমাকে দিয়েছ, সেগুলো ধরে রাখতে পারার জন্য আমি গর্বিত। তোমার জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসা।’
চ্যাম্পিয়নদের হারিয়েই শুরু আর্জেন্টিনার
ব্যবধান আরও বড় হতেই পারত। তা হয়নি আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতা আর চিলি গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভোর দৃঢ়তায়। বিশেষ করে গঞ্জালো হিগুয়েইন আর এরিক লামেলার দুটি শট ব্রাভো ঠেকিয়েছেন দারুণভাবে, যে দুটি গোল না হওয়াতে হিগুয়েইন আর লামেলাকে অবাক বিস্ময়ে, হতাশায় মাথা হাত পর্যন্ত তুলতে হলো। আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোও দুর্দান্ত খেলেছেন। তবে আর্জেন্টিনার চিরায়ত দুর্বল যে জায়গা, সেই রক্ষণে দুর্দান্ত উন্নতি আজ চোখে পড়েছে। নিজেদের রক্ষণে প্রতিপক্ষকে শট নেওয়ার সামান্য জায়গা দেয়নি। এ কারণে প্রতি–আক্রমণে যে কয়টি সুযোগ তৈরি করেছিল চিলি, তা কাজে আসেনি। যদিও যোগ করা সময়ে সেট পিস থেকে একটা গোল খেয়ে গেছে আর্জেন্টিনা। অবশ্য ততক্ষণে ম্যাচই শেষ।
চোট আর ভ্রমণক্লান্তি পুরো কাটিয়ে ওঠেননি বলে এই ম্যাচে খেলেননি লিওনেল মেসি। ম্যাচের পুরো সময়ে সান্তা ক্লারার গ্যালারিতে মেসি মেসি স্লোগান উঠল থেমে থেমে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে। আর্জেন্টিনা যে কিছুতেই খুলতে পারছিল না গোলমুখ। ডাগ–আউটে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি নিয়ে বসে থাকা মেসিকেও দেখাচ্ছিল চিন্তিত।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা দুর্দান্ত করে আর্জেন্টিনা। আক্রমণের পর আক্রমণে চিলির অটুট রক্ষণে চিঁড় ধরায়। আর তা থেকেই বানেগার দুর্দান্ত বাড়িয়ে দেওয়া বলে ব্রাভো আর বাঁ পোস্টের সামান্য ফাঁকা জায়গা দিয়েই বল জালে পাঠিয়ে দেন ডি মারিয়া। ম্যাচের ঘড়িতে তখন ৫১ মিনিট।
সাত মিনিট পরেই এবার ডি মারিয়া ঋণ শোধ করেন। তাঁর বাড়ানো বল থেকে বানেগার জোরাল শট চিলি ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে খানিকটা দিক বদলে চলে যায় জালে। গত বছর ফাইনালে টাইব্রেকারে নেওয়া বানেগার শট ব্রাভো ঠেকিয়ে দেওয়াতেই নিশ্চিত হয়েছিল আর্জেন্টিনার পরাজয়।
সেদিনের আরেক খলনায়ক হিগুয়েইনও প্রায়শ্চিত্ত করতে পারতেন। কিন্তু ৬৬ মিনিটে তাঁর শট দারুণ রিফ্লেক্সে ঠেকিয়ে দেন ব্রাভো। পা দিয়ে। বদলি হিসেবে নামা লামেলাকেও ম্যাচের শেষ দিকে গোল বঞ্চিত করেছেন। ওই শেষ প্রান্তেই ফ্রি কিক থেকে গোল খেয়ে গেছে আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচে মার্টিনোর খাতায় এই একটাই লাল দাগ। পাশাপাশি বিশ্বের সেরা দুই স্ট্রাইকারকে নিয়েও কেন বারবার অন্য কারও গোলে আর্জেন্টিনাকে পার হতে হচ্ছে, এটা নিয়েও নিশ্চয়ই ভাববেন কোচ।
গত দুটি কোপার শুরুটা ভালো হয়নি। ড্র দিয়ে শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে এবার চ্যাম্পিয়নদের মোটামুটি একপেশে ম্যাচে হারিয়ে দিয়ে শুরু করল। এবং আরও একবার সমর্থকদের আশায় বুক বাঁধাল। এইবারই কি তবে...।
Subscribe to:
Posts (Atom)




